দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ডলারের আমানত বেড়ে যাওয়ায় ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য উদ্বৃত্ত সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। রুপিতে অতিরিক্ত তারল্যের পরিমাণ করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। এতে বাজারে তারল্য ও স্বল্পমেয়াদি সুদের হার নিয়ন্ত্রণে নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)।
৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্য উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯.৭ ট্রিলিয়ন রুপি বা প্রায় ১০২.৬৭ বিলিয়ন ডলার। এটি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে ৯.২ ট্রিলিয়ন রুপি তারল্য উদ্বৃত্তের রেকর্ড ছিল।
রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়ার ঘোষিত অনাবাসী বৈদেশিক মুদ্রা আমানত কর্মসূচির আওতায় ভারতীয় ব্যাংকগুলো ১২৭.২৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত অর্থের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে সোয়াপ করা হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় রুপির তারল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে।
অতিরিক্ত এই তারল্য এখন আরবিআইয়ের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করছে। বিশেষ করে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্যের পরিমাণ বেশি থাকায় রাতারাতি বা ওভারনাইট সুদের হার নিয়ন্ত্রণ করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
বিনিয়োগ ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান নোমুরার অর্থনীতিবিদ সোনাল ভার্মা ও অরুদীপ নন্দী এক নোটে বলেছেন, আরবিআই বর্তমানে ‘প্রাচুর্যের সমস্যা’র মুখোমুখি। তাদের মতে, সামনে উৎসবের মৌসুমে নগদ অর্থের প্রচলন বাড়লে তারল্যের একটি অংশ কমে যেতে পারে। এ ছাড়া ফরোয়ার্ড চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া এবং সম্ভাব্য বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আরবিআইয়ের হস্তক্ষেপের মাধ্যমেও অতিরিক্ত তারল্য কিছুটা শোষিত হতে পারে।
তবে তারপরও বিপুল পরিমাণ উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে যেতে পারে বলে মনে করছে নোমুরা। এ পরিস্থিতিতে বাজার থেকে অতিরিক্ত রুপি শোষণ করতে আরবিআইকে বিভিন্ন ধরনের তারল্য-শোষণকারী ব্যবস্থা ব্যবহার করতে হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অতিরিক্ত তারল্য সাধারণত ঋণপ্রবাহ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সহায়তা করতে পারে। তবে তারল্য দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত থাকলে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রানীতির কার্যকারিতা বজায় রাখা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য জটিল হয়ে উঠতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএস/